লঘু ক্ষার ও গাঢ় ক্ষার
লঘু ক্ষার ও গাঢ় ক্ষার
লঘু (Dilute) ক্ষার ও গাঢ় (Concentrated) ক্ষার কী?
খুব সহজভাবে বললে, একটি ক্ষারের দ্রবণে কতটা পানি আর কতটা ক্ষার আছে, তার ওপর ভিত্তি করে তাকে লঘু বা গাঢ় বলা হয়।
- লঘু ক্ষার (Dilute Alkali): যখন কোনো ক্ষারের দ্রবণে ক্ষারের পরিমাণ খুব কম থাকে এবং পানির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে, তখন তাকে লঘু ক্ষার বলে। যেমন, এক গ্লাস পানিতে যদি তুমি সামান্য চুন (ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড) মেশাও, তবে সেটাই হবে একটি লঘু ক্ষারীয় দ্রবণ।
- গাঢ় ক্ষার (Concentrated Alkali): যখন কোনো ক্ষারের দ্রবণে পানির পরিমাণ খুব কম থাকে এবং ক্ষারের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে, তখন তাকে গাঢ় ক্ষার বলে।
:::warning
👍 উদাহরণ:
ধরো, ১০০ গ্রাম সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের (NaOH) একটি দ্রবণ আছে। যদি সেখানে ৯৮ গ্রাম সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড আর মাত্র ২ গ্রাম পানি থাকে, তবে তা গাঢ় ক্ষার। আর যদি সেখানে মাত্র ৫ গ্রাম সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড এবং ৯৫ গ্রাম পানি থাকে, তবে সেটি একটি লঘু ক্ষার।
:::
লঘু ও গাঢ় ক্ষারের বিভিন্ন ধর্ম
যদিও দুটোই ক্ষার, এদের ঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে এদের ধর্মে কিছু জরুরি পার্থক্য দেখা যায়।
১. সাধারণ ক্ষারীয় ধর্ম
সব ক্ষারেরই কিছু সাধারণ ধর্ম আছে, কিন্তু লঘু আর গাঢ় অবস্থায় সেই ধর্মের তীব্রতা কম-বেশি হয়।
- স্বাদ: দুটোই কষা বা তিক্ত স্বাদযুক্ত।
- স্পর্শ: দুটোই সাবানের মতো পিচ্ছিল, তবে গাঢ় ক্ষার অনেক বেশি পিচ্ছিল হয়।
- নির্দেশকের উপর প্রভাব: দুটোই লাল লিটমাস কাগজকে নীল করে দেয়। নীল লিটমাস কাগজে কোন চেঞ্জ আনে না।
- এসিডের সাথে বিক্রিয়া: দুটোই এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি তৈরি করে। তবে গাঢ় ক্ষারের সাথে বিক্রিয়াটি অনেক বেশি তাপ উৎপন্ন করে এবং দ্রুত ঘটে।
২. ক্ষয়কারী ধর্ম (Corrosive Nature)
- গাঢ় ক্ষার: এটি খুব বেশি ক্ষয়কারী। তোমার ত্বক, কাপড় বা প্রাণিজ টিস্যুর ওপর পড়লে মারাত্মকভাবে পুড়িয়ে ফেলে বা নষ্ট করে দেয়। একারণে এদের দাহক ক্ষার (Caustic Alkali) বলা হয় (যেমন: কস্টিক সোডা - NaOH)।
- লঘু ক্ষার: এটি তুলনামূলকভাবে কম ক্ষয়কারী, কিন্তু ত্বকের জন্য এটিও ক্ষতিকর হতে পারে, যদিও এর প্রভাব গাঢ় ক্ষারের মতো তীব্র নয়।
৩. বিদ্যুৎ পরিবাহিতা
- গাঢ় ক্ষার: গাঢ় ক্ষারে একক আয়তনে প্রচুর পরিমাণে আয়ন (যেমন: Na⁺ এবং OH⁻) থাকে। আয়ন সংখ্যা বেশি হওয়ায় এটি বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য খুব ভালো মাধ্যম। তাই এর বিদ্যুৎ পরিবাহিতা অনেক বেশি।
- লঘু ক্ষার: লঘু ক্ষারে পানির পরিমাণ বেশি হওয়ায় একক আয়তনে আয়নের সংখ্যা কম থাকে। তাই এর বিদ্যুৎ পরিবাহিতা তুলনামূলকভাবে কম।
৪. ধাতুর সাথে বিক্রিয়া
কিছু সক্রিয় ধাতু (যেমন: জিঙ্ক, অ্যালুমিনিয়াম) গাঢ় ও উত্তপ্ত ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস (H₂) তৈরি করে। লঘু ক্ষারের সাথে এই বিক্রিয়া সাধারণত ঘটে না বা খুব ধীর গতিতে হয়।
উদাহরণ:
লঘু ক্ষার বনাম গাঢ় ক্ষার: Summary
| ধর্ম (Property) | লঘু ক্ষার (Dilute Alkali) | গাঢ় ক্ষার (Concentrated Alkali) |
|---|---|---|
| সংজ্ঞা ও গঠন | যে দ্রবণে ক্ষারের চেয়ে পানির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। | যে দ্রবণে পানির চেয়ে ক্ষারের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। |
| ক্ষয়কারী ক্ষমতা | তুলনামূলকভাবে কম ক্ষয়কারী। | অত্যন্ত ক্ষয়কারী এবং দাহক। ত্বক ও অন্যান্য বস্তুর মারাত্মক ক্ষতি করে। |
| এসিডের সাথে বিক্রিয়া | ধীর গতিতে বিক্রিয়া করে এবং কম তাপ উৎপন্ন হয়। | দ্রুত ও তীব্রভাবে বিক্রিয়া করে এবং প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। |
| লিটমাস পরীক্ষা | লাল লিটমাসকে নীল করে। | লাল লিটমাসকে নীল করে। (ফলাফল একই) |
| বিদ্যুৎ পরিবাহিতা | দুর্বল বিদ্যুৎ পরিবাহী (কারণ কম আয়ন থাকে)। | উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী (কারণ বেশি আয়ন থাকে)। |
| উদাহরণ | সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের ৫% জলীয় দ্রবণ। | সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের ৯৮% জলীয় দ্রবণ। |